
গাজীপুরের শ্রীপুরে বন বিভাগের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে দখলদারদের হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বন বিভাগের ১৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। হামলার সময় উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত একটি সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের হাজরিচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান, শ্রীপুর সদর বিট কর্মকর্তা আকতার হোসেন, সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন, ফরেস্ট গার্ড আলমগীর, দেওয়ান শাকিল, কামাল মিয়া, আলমগীর হোসেন, আবদুল মজিদ, গাড়িচালক সোহেলসহ মোট ১৬ জন।
সাতখামাইর বিট কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন জানান, তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের হাজরিচালা এলাকায় ২ নম্বর খতিয়ানভুক্ত বন বিভাগের জমি সি.এস. দাগ নম্বর ১২৩০ এবং আর.এস. দাগ নম্বর ১৩১০-এর অন্তর্ভুক্ত সরকারি বনভূমি স্থানীয় দুলাল ও আরমান অবৈধভাবে দখল করে পাকা ঘর নির্মাণ করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার সকালে শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে বন বিভাগের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক হাজিরাভিত্তিক শ্রমিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সেখানে যান।
তিনি আরও জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হলে দুলাল ও আরমানের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বন বিভাগের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এতে রেঞ্জ কর্মকর্তা, সদর বিট কর্মকর্তাসহ ১৬ জন আহত হন। হামলাকারীরা অভিযানে ব্যবহৃত রেঞ্জ কর্মকর্তার সরকারি গাড়িটিও ভাঙচুর করে।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বিজন কুমার মালাকার জানান, আহতদের মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান ও সদর বিট কর্মকর্তা আকতার হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের ঢাকা রেঞ্জের বন সংরক্ষক শামসুল আরেফিন বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বন বিভাগের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল আলম বলেন,খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।