
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ঝর্ণা (১৭) হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। মামলার প্রধান আসামির নাম ও বয়স পরিবর্তন করে আইনি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার।
বাদীপক্ষের দাবি, সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) এড়াতে এবং নিজেকে ‘কিশোর’ প্রমাণ করে শিশু আইনের সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিপক্ষ নথিপত্র জালিয়াতি করেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ঝর্ণা প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। পরে সদর উপজেলার মনিপুর এলাকায় পৌঁছালে ঘাতক মিরাজ মন্ডল পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো দা দিয়ে তার গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঝর্ণার মরদেহ নিজ বাড়িতে প্রায় এক সপ্তাহ লুকিয়ে রাখে মিরাজ।
এ ঘটনায় এলাকায় এবং ভাওয়াল মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হয়।
নিহত ঝর্ণার পরিবারের অভিযোগ, জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও পিবিআই গাজীপুরের দাখিলকৃত দুই দফা চার্জশিটে আসামির নাম উল্লেখ করা হয় মিরাজ মন্ডল, যার অনলাইন জন্ম সনদ অনুযায়ী জন্মতারিখ ১২ জুলাই ২০০৫। ওই তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের সময় আসামি একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি। কিন্তু সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে—বিচার চলাকালীন সময়ে আসামিপক্ষ নতুন একটি অনলাইন জন্ম সনদ তৈরি করেছে। এখানে আসামির নাম পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে মো. মিরাজ রহমান এবং জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ১৪ অক্টোবর ২০০৬। নতুন তথ্য অনুযায়ী আসামি নিজেকে ‘কিশোর’ দাবি করে শিশু আইনের সুবিধা নিতে চাইছে বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।
নিহতের পিতা ও মামলার বাদী মো. মুকুল হোসেন বলেন, আমার মেধাবী মেয়েকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, হত্যার সময় আসামি প্রাপ্তবয়স্ক। অথচ মামলা চলাকালীন অবস্থায় আসামিপক্ষ নাম ও বয়স পরিবর্তন করে কিশোর সাজানোর অপচেষ্টা করছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল—আদালত অবশ্যই এই জালিয়াতির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারাধীন মামলায় আসামির পরিচয় বা বয়স নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। প্রমাণিত হলে বয়স বা পরিচয় জালিয়াতির দায়ে সংশ্লিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে পৃথকভাবে শাস্তিমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে আদালত।
বর্তমানে নিহতের পরিবার ও সচেতন মহল আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। সবার দাবি, কাগজপত্রের কারসাজিতে যেন একজন নৃশংস খুনি কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে এবং মেধাবী ঝর্ণার হত্যার সঠিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।