
স্টাফ রিপোর্টার :- গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক তাৎপর্যপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত এ সেমিনার বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আইকিউএসি’র সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “আইপি অ্যান্ড স্পোর্টস: রেডি, সেট, ইনোভেট”। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, প্রক্টরসহ ৮৭ জন অধ্যাপক অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী।
কী-নোট স্পিকার হিসেবে ট্রেজারার কৃষিতে মেধাস্বত্বের ভূমিকা, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ও ডিজাইনসহ বিভিন্ন ধরনের মেধাস্বত্ব অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি উদ্ভাবন ও সৃজনশীল সম্পদকে কীভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তা ব্যাখ্যা করা হয়।
প্রেজেন্টেশনের পর উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী অধ্যাপকরা মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, গবেষণা বাণিজ্যিকীকরণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, “টেকসই উন্নয়নের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি, আর মেধাস্বত্ব সেই উদ্ভাবনকে সুরক্ষা দেয়।” তিনি গাকৃবির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে মেধাস্বত্ব সুরক্ষার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান, গবেষকদের উদ্ভাবনকে পেটেন্টের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্ত করতে গাকৃবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হান।
উল্লেখ্য, পেটেন্ট, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক ও ডিজাইনসহ মেধাসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO) ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস পালন করে আসছে।