
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় আটক ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে শ্যুটার হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, নিহতের জামাই পরশ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি আরও কয়েকজন সহযোগীর নামও উল্লেখ করেন।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মিশুককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বেজপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে মিশুককে আটক করে যশোর ডিবি পুলিশ। মিশুক বেজপাড়া চিরুনিকল এলাকার মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাথের ছেলে।
জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে মিশুক বাড়িতে ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যার আগে প্রিন্স তাকে বাসা থেকে পরশের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পরশ, সাগর, অমিসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এরপর অমি ও মিশুক মোটরসাইকেলে বের হন। মিশুক মোটরসাইকেলের পেছনে বসে আলমগীরকে গুলি করেন।
ডিবির এসআই অলক কুমার দে সাংবাদিকদের জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে প্রথমে মিশুককে শনাক্ত করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম বাদী হয়ে জামাই পরশ ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর পরশ ও সাগরকে ইতোমধ্যে পুলিশ আটক করেছে। সর্বশেষ গ্রেফতার করা হলো ত্রিদিব মিশুককে।