
মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় আয়মন নদী খননে ক্ষতিপূরণ ও মাটি বিক্রির নিলাম বন্ধ চেয়ে রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মানববন্ধন করেছে আয়মন নদীর দুই পাড়ের ভূক্তভোগী পরিবার ও মুক্তাগাছা জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা। দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করে হয়,তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? মাটি নিলাম বন্ধ করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনর্বাসন করা হোক।
মানববন্ধনে গ্রামবাসীর পক্ষে আশরাফুল ইসলাম,হাফিজুর রহমান পলাশ এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির ডাঃ মাকামে মাহমুদ,ডাঃ আরিফুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ,পারভেজ,সুইট,
আহসান,ইমতিয়াজ হবি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে আয়মন নদী খনন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার আমোদপুর, কান্দিগাঁও, দত্তপাড়া, দিঘলগাঁও, শ্যামপুর, সোনাপুর, পয়ারকান্দি এলাকার নদী পাড়ের হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে ক্ষেতের মধ্যে পলিথিনের ঘর বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভূক্তভোগী পরিবারের মাঝে পানীয় জলের সংকটকের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থা যথেষ্ট না থাকায় শিশু,বৃদ্ধ,গর্ভবতী নারীদের নিয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজনের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
আয়মন নদী পাড়ের ভূক্তভোগী পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা দাবি করেন, আইমন নদী খননে কোনো সঠিক নিয়ম মানা হয়নি। মৌজা ম্যাপ এবং সিএস নকশা দেখানোর দাবি উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সরকারি খনন প্রকল্পের সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি, যা নিয়মবহির্ভূত। এমনকি যারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে জমি কিনেছেন, তাদের জমিও অবৈধ ঘোষণা করে ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়ে নদীর জমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এতে করে অনেকের বসতভিটা নদীর মধ্যে চলে গেছে। অবিলম্বে নদীর সঠিক সীমানা নির্ধারণপূর্বক নদী খনন করা হোক এবং মালিকানাধীন জমি ভূক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক। তানাহলে এলাকাবাসী আন্দোলন করে নদী খনন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।
উপজেলা জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধি ডাঃ মকামে মাহমুদ অভিযোগ করেন,মাটি ফেলার নামে বহু ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাঘ মাসের কনকনে শীতে তারা নিরূপায়।খাদ্য, নিরাপত্তা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা নেই ক্ষতিগ্রস্তদের। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আগেই ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূক্তভোগীদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমাদেরকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা লুবনা আক্তার লুনা বলেন, লিখিত দাবি এবং গণস্বাক্ষর পেয়েছি। ভূক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন,বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, ভূক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। ভূক্তভোগীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে সুপারিশ করা হবে। বিষয়টির চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আখলাক উল জামিল জানান,আয়মন নদী খননের মাটি রাখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিছু মানুষ সাময়িক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কথা সত্য। মাটি অপসারণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে বিষয়টি পাউবো উর্দ্ধতনদের নজরে আনা হবে।