
গাজীপুরের শ্রীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চা দোকানির বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অসহায় চা দোকানি আদালতের শরণাপন্ন হলেও জমি দখল ঠেকাতে পারেননি। আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রাহ্য করে দখলদাররা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন (৫৫), উপজেলার প্রহলাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান গ্রামের কুমুর উদ্দিনের ছেলে। তিনি ফাওগান বাজারে চা দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।
অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা হলেন একই ইউনিয়নের ডুমনী গ্রামের আব্বাস মোল্লা (৩৫) এবং জালাল খান (৩৫)। ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমি অসহায় মানুষ। চা দোকান চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাই। সেই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে থাকি। হঠাৎ অভিযুক্তরা এসে জোরপূর্বক জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ শুরু করেছে। আমাদের বাড়ির স্থাপনা ও মালামাল ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমি বাধা দিলে আমাকে মারধর করা হয়।"
তিনি আরও বলেন, "থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। স্থানীয়দের পরামর্শে আদালতের শরণাপন্ন হই। আদালত সমস্ত কাগজপত্র দেখে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং পুলিশের মাধ্যমে নোটিশ পাঠান। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমি অসহায় মানুষ, শুধু চেয়ে দেখছি। গরিবের জন্য কোনো বিচার নেই।"
ভুক্তভোগী জানান, বৃহস্পতিবার স্থানীয় ভূমি অফিসে অভিযোগ করতে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে তাকে হামলা করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ভূমি অফিসে আশ্রয় নেন। তার জমিতে কোনো প্রকার দাবি ছাড়াই জোরপূর্বক মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত আব্বাস মোল্লা বলেন, "জমিতে কীভাবে মার্কেট নির্মাণ করছি, সেটা সাংবাদিকদের জানাতে হবে না। থানা-পুলিশ বা আদালতে বলবো।"
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তদের থানায় ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা পুলিশের ডাকে আসেনি। পরে আদালতের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ পুলিশের মাধ্যমে জারি করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবুও কাজ চলছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।"