
গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং বাহরাইন প্রবাসী যুবসম্রাট শেখ সোহেল বলেছেন, “বিএনপির নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের অসংখ্য প্রবাসী নেতাকর্মী প্রাণপণ আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছেন। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে বছরের পর বছর তারা দেশে আসতে পারেননি। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমাদের প্রবাসী নেতাকর্মীদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ তথা আওয়ামী দুঃশাসনের অবসান হয়েছে, এমনটি বলা একটি ভ্রান্ত ধারণা। এটি পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও সুবিধাভোগীদের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। ফ্যাসিবাদ এক দিনে প্রতিষ্ঠা পায় না। নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে বৈষম্য তৈরি করলেই তা ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে—এমন ধারণা ভুল। আন্দোলনের সফলতা এসেছে মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের কারণে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ভূমিকা খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
“একটি সামাজিক আন্দোলন তখনই সফল হয়, যখন তাতে রাজনৈতিক দলের সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। একটি ‘একদফা’ আন্দোলনের চেতনা কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের বিপ্লবী চেতনাকে ধারণ করে। বিপ্লব এক দিনে হয় না। এটি চেতনাগত লড়াইয়ের ফল, যেখানে আপোষহীনতা, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে।”
শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের শেখ সোহেল কাওরাইদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং থানা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ছিলেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি আওয়ামী মদদপুষ্ট লোকজনের নির্যাতনের শিকার হন এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে জীবনযাপন করছেন।
কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির এক কর্মী বলেন, “বাংলাদেশের যেকোনো দুর্যোগে প্রবাসে থেকেও দেশের মানুষের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন প্রবাসী শেখ সোহেল। সাবেক ছাত্রদলের নেতারা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি সরাসরি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। এর ফলে তাদের পরিবারের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এসব প্রবাসী যোদ্ধারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের পথ তৈরি করেছেন। তাদের অবদান আমরা কখনো ভুলে যেতে পারি না। তাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রাম আমাদের সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে।”