
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পূর্বশত্রুতার জেরে ৬টি বসতঘরে আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের মৌলারপাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, পূর্বশত্রুতার কারণে মৌলারপাড় গ্রামের মৃত সফর আলীর পুত্র রফিক মিয়া ওরফে রফু এবং তার ভাই ফজলু মিয়াসহ পরিবারের সদস্যদের ৬টি বসতঘরে আগুন ও লুটপাট চালায় একটি সংঘবদ্ধ দল। এ সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে এবং ৬টি বসতঘর, দুটি মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, ধান-চাল আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন দুপুরের দিকে ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ রফু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বসতঘরে চারদিক থেকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এমনকি লাঠি, রাম দা ও বল্লম নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়।
স্থানীয়রা এ ঘটনাকে বর্বর ও নারকীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা জানান, রফিক মিয়া ওরফে রফু এবং ফজলু মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আল-আমিন এবং মৌলারপাড় গ্রামের দিলো মিয়ার পুত্র আল-আমিন গংদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। এরই জেরে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
রফিক মিয়া অভিযোগ করেন, চৌধুরীপাড়া গ্রামের মৃত লায়েছ মিয়ার পুত্র আল-আমিন মেম্বার, বশির, কামাল উদ্দিন এবং আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ লাঠিয়াল দল তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। প্রাণে বাঁচার জন্য তারা একটি ঘরের ছাদে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
উপজেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর ২০-২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আমাদের কাজে বাধা দেয় এবং আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে।”
দোয়ারাবাজার থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনা। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”