
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ভুয়া দুই এনজিও কর্মীকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আটককৃতরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার গুপ্তরগাতী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মুরাদ মিয়া (৩৮) এবং একই থানার ঝকার গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সোয়েব মোল্লা (২৭)।
গতকাল সোমবার বিকেল তিনটার দিকে হোসেনপুর পৌরসভার ঢেকিয়া গ্রামের মৃধা বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এ বিষয়ে হোসেনপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা মুন্নী আক্তার হোসেনপুর থানায় এজাহার দাখিল করেন। এজাহারে তিনি আটককৃত দুইজনসহ আরও চারজনের নাম উল্লেখ করেন। অন্য আসামিরা হলেন, একই এলাকার আবু বক্কর মুন্সির ছেলে হাবিব মুন্সি (৪৫) এবং মৃত ওয়াসেদ শেখের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল (৪৮)। এছাড়া অভিযোগে ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি "কৃষি ফাউন্ডেশন" নামে একটি ভুয়া এনজিওর পরিচয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারা লাল রঙের পাশ বই ইস্যু করে প্রতারণা করত। ওই বইয়ে প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা হিসেবে ১১৮/৫, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা-১০০০ উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে হোসেনপুর মহিলা কলেজের পাশে জনৈক মো. মহরম আলীর ভবন ভাড়া নিয়ে শাখা অফিস স্থাপন করে সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করত। পরে তারা টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়।
হোসেনপুর থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, আটককৃতরা পুলিশের কাছে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, "কৃষি ফাউন্ডেশন" নামক ভুয়া এনজিওর মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি ৫০ হাজার টাকা জমা দিলে ৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিত।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে পৌর এলাকার হাওয়া আক্তারের কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা, রেহেনা আক্তারের কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা এবং তাসলিমা আক্তারের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এভাবে আরও অনেকের কাছ থেকে আনুমানিক ৫০-৭০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার একই কায়দায় টাকা নিতে গেলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দু'জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, আটককৃতদের নামে প্রতারণার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে তোলা হলে আদালত তাদের কিশোরগঞ্জ কারাগারে প্রেরণ করেন।