
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই রহিমের বিরুদ্ধে মামলা করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মুরাদ হোসেন, একজন এনজিও কর্মী, দাবি করেছেন যে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে এসআই রহিমসহ তাঁর সহযোগীরা ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আদায় করেছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। তবে এখনও তারা কোনো সমাধান পাননি।
রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার নওপাড়া ইউনিয়নের পুরান তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা মুরাদ হোসেন (৩১) অভিযোগ করেন, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে মোহনগঞ্জ বাজারের পাশে "বিয়ান বাড়ি কফি হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট"-এ কফি পান করার সময় সিভিল পোশাকে থাকা এসআই রহিম ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে তুলে নিয়ে যান।
তাঁকে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েনের পুকুরের প্রকল্পে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে মুরাদের বাবা সাহেব আলী স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপরও মুরাদের একটি বাটন ফোন ও একটি রিয়েলমি অ্যান্ড্রয়েড ফোন জব্দ করা হয়।
পরে, ৩০ আগস্ট মুরাদের ফোন দুটি ফিরিয়ে দেওয়া হলেও অভিযোগের সুরাহা হয়নি। মুরাদের দাবি, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানান যে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে কেউ যাননি বা কোনো সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি।
মুরাদ বলেন, “তদন্ত সঠিকভাবে না করেই অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করা হলো। এমন পরিস্থিতিতে আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি উত্থাপন করব।”
অন্যদিকে, ডিবি পুলিশের এসআই রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি মুরাদ নামের কাউকে চিনি না। অভিযোগের বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলুন।”
রাজশাহী জেলা ডিবি’র ওসি রুহুল আমিন বলেন, “বিষয়টি তদন্তাধীন। পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।”
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র জানান, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, “আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের কপি পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীর পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।