
সোহেল রানা,রাঙামাটি থেকে ফিরে : টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল। গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন সাবিনা খাতুন,ঋতুপর্ণা চাকমা,মনিকা চাকমারা।
দেশে ফেরা বিজয়ী ফুটবলারদের বরণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন বাফুফের শীর্ষ কর্মকর্তারা,ছিলেন সাধারণ মানুষও। পরে ছাদ-খোলা বাসে করে তাদেরকে মতিঝিলে বাফুফে ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে।
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মঘাছড়ি গ্রামেই বেড়েওঠেন ঋতুপর্ণা চাকমা। সদ্য শেষ হওয়া সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা খেলোয়াড়ের তকমাটাও জুটেছে তার নামের পাশে। এই নিয়ে এলাকায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
তবে এই পথ যে পাহাড়ের মতোই বড্ড দুর্গম ছিলো সে কথা জানেন ঋতুপর্ণাও। ঋতুপর্ণার বয়স যখন ১১ বছর,তাঁর বাবা বরজ বাঁশি চাকমা ক্যানসারে মারা যান ২০১৫ সালে। তাঁর একমাত্র ভাই পার্বণ চাকমা ২০২২ সালের জুনে মারা যান মর্মান্তিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে।
বাবা-ভাই বিহীন সংসারের হাল টেনে ধরেছেন তার মা ভুজুপতি চাকমা। এরই মধ্যে ফুটবলের প্রতি প্রগাঢ় টান বয়ে নিয়ে গেছেন ঋতুপর্ণা। জাগতিক সকল বাধাবিপত্তি ডিঙিয়ে ঋতুপর্ণা পড়েছেন লাল-সবুজের জার্সি,জিতেছেন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী ফুটবলারের খেতাবও।
তাই তো মেয়ের সাফল্যে তার মা ভুজুপতি চাকমার আনন্দই যেনো সবচেয়ে বেশি।
মেয়ের সাফল্যে খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে
ঋতুপর্ণা মা বলেন,কষ্টের মাধ্যমেই ওর জন্ম হয়েছে। বাবা হারা মেয়েকে অনেক সময় খেতে পর্যন্ত দিতে পারিনি। দিতে পারিনি ভালো-মন্দ পাশাক। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর ওর একমাত্র ভরসাস্থল ছিল ওর ভাই পার্বণ। ওর ভাই ওকে খেলাধুলায় সহযোগিতা করেছে। কঠিন দারিদ্র্যতা মোকাবেলা করেও ফুটবল খেলাটা ছাড়েনি ঋতু। ওর স্বপ্ন ছিল বড়মাপের ফুটবল খেলোয়ার হবে। সৃষ্টিকর্তা ওর মনের আশা পূরণ করতে চলেছে। সবাই ঋতুর জন্য দোয়া করবেন, ও যেনো ফুটবলে দেশের নাম পৃথিবীতে চড়িয়ে দিতে পারে।